চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৫ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি - আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। আতংকগ্রস্থ জেলা মানুষ। বয়বৃদ্ধ থেকে আরম্ভ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে কঠেন রোগ ডেঙ্গুতে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৮ জনে। শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রিপোর্টে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২৫ রোগীর মধ্যে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী। এছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৩ জন পুরুষ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে শিবগঞ্জ, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জন পুরুষ ও ৪১ জন নারী। হাসপাতাল ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৮৩ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, গোমস্তাপুরে ১০ জন, নাচোলে ১ জন এবং ভোলাহাটে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলার মোট ১ হাজার ৯৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৭০২ জন। এছাড়া শিবগঞ্জে ১০২ জন, গোমস্তাপুরে ৫৮ জন, নাচোলে ৪২ জন এবং ভোলাহাটে ৬৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । বিশেষ করে জমে থাকা পানি দ্রæত অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।